ঘূর্ণিঝড় সিডরে ট্রলার ও জাল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন জেলে বাদল আকন (৪০)। মহাজনের দাদনের টাকা শোধ করতে ও সংসার চালাতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। অভাবের সংসারে তাই টানাপোড়েন ও অশান্তি লেগেই থাকত।
কয়েক দিন আগে এক পাওনাদার টাকার জন্য মারধর করেন তাঁকে। দেনার দায় ঘোচাতে ও পারিবারিক অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে শেষ পর্যন্ত বাদল মৃত্যুকেই বেছে নিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করছে। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার খেজুরবাড়িয়া গ্রাম থেকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ বাদলের মরদেহ উদ্ধার করে।
বড়মাছুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানান, দেনা, দারিদ্র্য ও পারিবারিক অস্থিরতায় জেলে বাদল আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন হয়তো।
বাদলের বাবা ছত্তার আকন জানান, বাদলের দুই ছেলেমেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে সাথীর বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। ছেলে শাকিলের বয়স আট বছর। গত সোমবার বিকেলে বাদলের সঙ্গে ঝগড়া করে স্ত্রী হাসিনা বেগম শাকিলকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। রাত ১১টার দিকে বাদল নিজের ঘরে ঘুমাতে যান। সকালে প্রতিবেশীরা সাড়াশব্দ না পেয়ে ওই ঘরের জানালা খুলে দেখতে পায়, ঘরের আড়ার সঙ্গে দড়িতে বাঁধা বাদলের লাশ ঝুলছে। পরে গ্রাম পুলিশ শিমুল মণ্ডল থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
প্রায় একই কথা বললেন বাদলের বোনের স্বামী আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘সোমবার বিয়ালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ওয়। হের পর বাদলের বউ পোলাডারে লইয়া বাপের বাড়ি চইল্লা যায়। রাইতে বাদল এল্লা (একলা) ঘরে আললে (ছিল)। আইজ হয়ালে খবর পাই, বাদল গলায় দড়ি দিছে।’
বাদলের স্ত্রী হাসিনা বেগম বলেন, ‘মোর স্বামী তিন লাখ ট্যাহা দেনা আললে। সংসারের অভাব লইয়া হের লগে মোর মাঝেমধ্যে ঝগড়া ওইত। স্বামীর অকাল মরণে মুই কেমনে হের দেনা দিমু? মাইয়াডার ঘর ভাঙার পর চিটাগাং গ্যাছে গার্মেন্টে কাম করতে। পোলাডা স্কুলে যায়। এহন মুই চোহে আন্ধার দ্যাখতেছি।’
বড়মাছুয়া গ্রামের মাসুম ফরাজী জানান, বাদল আকনকে কয়েক দিন আগে এক পাওনাদার মারধর করেন। বাদলের দেনা এত বেশি ছিল যে তাঁকে এলাকাবাসী ‘দেনাদার বাদল’ বলে ডাকত।
উপজেলার বড়মাছুয়া ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাবুল আকন জানান, বাদল একসময় সচ্ছল জেলে ছিলেন। মানুষ হিসেবেও তিনি ভালো ছিলেন। তিনি আসলে পরিস্থিতির শিকার। শেষ দিকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
মঠবাড়িয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজিজুর রহমান জানান, গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় লাশটি পাওয়া গেছে। শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
News Source: Prothom-alo.com
129, Shenpara Parbata, Mirpur-10, Dhaka-1216, Bangladesh. Phone: 88029007039 Cell: 8801711584519 E-mail: editor@topbdnews.com